সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কমল নগরে ছাত্রকে মারধর করে ছাড়পত্র দেওয়া দুই শিক্ষক কারাগারে

 

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া নিজস্ব প্রতিবেদক

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ছাত্রকে বেদম বেত্রাঘাতের পর ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ার অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধানসহ দুই শিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা আদালত। আজ সোমবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি অঞ্চল (কমলনগর) আদালতের বিচারক তারেক আজিজ এ রায় প্রদান করেন ।

এতে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক হলেন- কমলনগর উপজেলার চর লরেন্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক দোলন ও সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম। গণমাধ্যমকে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ইয়াসিন আরাফাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উক্ত রায়ের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ছাত্রকে বেত্রাঘাতের পর ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ার ঘটনায় ওই দুই শিক্ষক উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে ৬ সপ্তাহের জামিনে ছিলেন।
জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে আদালতের মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী আহসান উল্যা চর লরেন্স গ্রামের স্হায়ী বাসিন্দা। তার ছেলে ইয়াছিন আরাফাত সজল চর লরেন্স উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র বলে জানা যায়।
গত ১ জুন প্রতিদিনের মতো সকালে সজল বিদ্যালয়ে গেলে সহকারী শিক্ষক রেজাউল তাকে প্রধান শিক্ষক দোলনের কক্ষে নিয়ে যান।এবং এ সময় রাগান্বিত সরে তার কাছে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির কারন জানতে চাওয়া হয়।
এতে সজল কোন প্রতি উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকে। একপর্যায়ে শিক্ষক দোলন ও রেজাউল ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অনবরত বেত্রাঘাত করতে থাকে। মারপিটের পরে পরে তাকে বিদ্যালয় ত্যাগের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। উক্ত ঘটনায় ১০ জুলাই আহসান উল্যাহ বাদী হয়ে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক দোলন অভিযোগ করে বলেন, সজল একই বিদ্যালয়ের এক স্কুল ত্রীকে প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করতো। এ উক্তত্বের ঘটনায় তার অভিভাবকরা অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ওই ছাত্রকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বেত্রাঘাত করার অভিযোগ মিথ্যে সঠিক নয়। আমাকে হয়রানি করার জন্য উদ্দেশ্যমূলক মামলাটি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে বাদীর আইনজীবী একে হুমায়ুন কবীর বলেন, মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরই আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেন। মেয়াদ শেষে তারা আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে নামঞ্জুর করেন আদালত।

দেশ জার্নাল বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়