মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তি এখনও চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: প্রধানমন্ত্রী।

 

ফাইল ছবি

ঢাকা:

স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তি এখনও নানাভাবে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (০৩ নভেম্বর) জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তি এখনও নানাভাবে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে।

তিনি বলেন, এ অপশক্তির যে কোনো অপতৎপরতা-ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আসুন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ধারা সমুন্নত রেখে সবাই মিলে জাতির পিতার স্বপ্নের দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি। জেল হত্যা দিবসে এটাই হোক আমাদের সুদৃঢ় অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে।

কারাগারের ভেতরে এ ধরনের বর্বর হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন উল্লেখ করে তিনি জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় চার নেতার আত্মত্যাগ বাঙালি জাতি চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল জাতির পিতাকে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ হত্যার ধারাবাহিকতা।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত শক্তি ও দেশবিরোধী চক্র বাংলার মাটি থেকে আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব শূন্য করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। ঘাতকদের উদ্দেশ্যই ছিল, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকেই হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। আত্মস্বীকৃত খুনিদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করেছিল। হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে পুরস্কৃত করেছিল। বিদেশে দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল।

স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব দিয়েছিল। রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার করেছিল। ব্যবসা করার সুযোগ দিয়েছিল। বিপুল অর্থের মালিক করে দিয়ে তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করেছিল। ১৯৭৫-এর সেই ষড়যন্ত্রকারী ও হত্যাকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদদাতারা পরবর্তী ২১ বছর ধরে দেশের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে। অবৈধ শাসকরা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে বাংলাদেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর আন্দোলন সংগ্রামের পর আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে জাতির পিতার হত্যার বিচার শুরু করে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে এ হত্যার বিচার কাজ বন্ধ করে দেয়। দেশের জনগণ ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুনরায় বিপুল ভোটে বিজয়ী করে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

সপরিবারে জাতির পিতা হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে আমরা জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছি। জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। পলাতক খুনিদের খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে। জনগণকে দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী একাত্তরের মানবতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হেয়েছে এবং বিচার চলমান আছে। সংবিধান সংশোধন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করা হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে দেশে শান্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

উন্নত দেশ গড়তে সরকার নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৩ বছরে আমাদের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ আজ আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছি। করোনা মহামারির মধ্যেও আমরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

( সূত্র — বাংলা নি)
সো/আ

দেশ জার্নাল বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়