সোমবার, ২৭শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বাজার সিন্ডিকেটের কবলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ

 

নুরুল আমিন ভূঁইয়া দুলাল:- নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিত্য পণ্যের দ্রব্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। এতে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষজন, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছে বাজারের নিত্যপূর্ণ দ্রব্য। এ বিষয়ে বিশিষ্টজনরা বলছেন সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে চলছে বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজি।
এক পর্যায়ে নিন্ম আয়ের মানুষদেরকে জিম্মি করে ফেলেছে এই সিন্ডিকেট চক্র। প্রতিদিনই লাগামহীনভাবে নিত্য পুণ্য দ্রব্যের দাম বেড়েই চলেছে। আমাদের দেশে একবার যে পণ্যের মূল্য বাড়ে তাহা আর কোনদিন কমার লক্ষণ থাকে না।
আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছেলেমানুষী কর্মকাণ্ডে জনগণ হতাশ ! সিন্ডিকেটের বেড়ে যাওয়া পণ্য সেই দামে নির্ধারণ করে দেন বানিজ্য মন্ত্রণালয় যাহা হাস্যকর। কিন্তু সেই নির্ধারিত পণ্য বিক্রি করতেও নারাজ ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রব্যমূলক ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে বিক্রি করছেন, জনসাধারণ আজ এই সিন্ডিকেটের কবলে জিম্মি।
আজ মঙ্গলবার জেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ দিন প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। এবং পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১৭০ টাকা। যাহা গত সাত দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১৫৫ টাকা। আর এক মাস আগে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা ছিল। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা। যাহা গত সাত দিন আগে ৫৫-৬০ টাকা ছিল। দেশি রসুন প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩৮ টাকা যা এক মাস আগে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা। যা আগে ৩৪০ টাকা ছিল। ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা, এক মাস আগে ১৬৫-১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিলিটার খোলা পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। যা এক মাস আগে ১৩০ টাকা ছিল। প্রতিকেজি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হয়েছে ৫২-৫৪ টাকা। যা এক মাস আগে ৪৮ টাকা ছিল। গত মাসে প্রতিকেজি আলু ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৪৫ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। এরই পাশাপাশি সব ধরনের শিল্পপণ্যের দামও বেড়েছে। বিস্কুটের প্যাকেট আগে যেগুলো ১০ টাকা ছিল, তা এখন ১৫ টাকা। ৬৮ টাকা দামের চানাচুরের প্যাকেট ৮০ টাকা। ৩০ টাকা দামের সাবান ৫৫ টাকা।
এদিকে নির্বাচনী ব্যস্ততার সুযোগে দেশে যেন লুটপাটের মহোৎসবে মেতেছে বাজার সিন্ডিকেট চক্র।
আর মাত্র ২ মাস পরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যার যেমন খুশি নিত্য পুণ্যের দাম প্রতিনিয়ত হু হু করে বেড়েই চলেছে।
নিত্য পণ্যের মূল্যের লাগাম টেনে ধরার যেন কেউ নেই।
আলু পেঁয়াজ ডিম তরিতরকারি মাছ মাংসের বাইরে এবার রান্নার জন্য অপরিহার্য এলপি গ্যাসের বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য লুটপাট। বাজার মনিটরিংয়ে প্রশাসন যেন একেবারে স্হবির, নেই কোন সাঁড়াশি অভিযান।
শীত না আসতেই ১৩ কেজির সিলিন্ডারে দাম বেড়েছে ৪শ থেকে ৭শ টাকা।
এই লুটপাটের দলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বসুন্ধরা গ্রুফ ও বেক্সিমকো গ্রুফ।
১৩ কেজির বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের দাম ১৬৫০/- ১৮০০ টাকা, যা একমাস আগেও ছিলো ১২০০-১২৫০ টাকা।
বেক্সিমকো তাদের প্লাস্টিকের সিলিন্ডারের দামও এমনিই নিচ্ছে।
অন্য কোম্পানি গুলো যেখানে পাইকারী বিক্রি করে ১৩৫০ টাকা, ভোক্তা পর্যায়ে তা ১৪০০-১৪৫০ টাকা।
জনতার জিজ্ঞাসা হলো বেক্সিমকো গ্রুফ এবং বসুন্ধরা গ্রুফ কি আইনের ঊর্ধ্বে?
তারা কি তাদের ভোক্তাদের জিম্মি করে লুটপাটের উৎসবে মেতেছে?
আমাদের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাজটা কি?
তারা কি বাজার মনিটরিং করে না?

দেশ জার্নাল বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----