মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

রায়পুরের হাওয়ায় দোল খায় কাশফুল

র্ষাকে বিদায় দিয়ে প্রকৃতিতে এখন চলছে শরতের একচ্ছত্র দাপট। শরতকে বলা হয় শুভ্রতার প্রতীক। শিউলি ফুলের সাথে স্বচ্ছ আকাশ আর মায়াবী জ্যোৎস্নার কারণেই হয়েছে শরতের এমন নাম। এটি তাছাড়াও শরতের পরিচয় মেলে কাশফুলের হেলাদুলায়। আর এই শরতকে স্বাগত জানিয়ে সবুজের মাঝে মেতে উঠে কাশফুল।

 

ঋতু বৈচিত্র্যময় এ বাংলাদেশের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেয় শরতের এই কাশফুল। 

রবিবার বিকেলে রায়পুরের শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ রায়পুর এল.এম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের মাঠে জেগে ওঠা কাশবাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসে রাহাত, নাহিদ, সিয়াম, সোহান, ফাতেমা জেরিনসহ বেশ কয়েকজন। তারা জানান, রাস্তা থেকে কাশফুলের সৌন্দর্য ভালো দেখা যায়। এতো সুন্দর অপরূপ দৃশ্য না দেখলে আপসোস থেকে যাবে। তাই খবর পাওয়া মাত্রই সিএনজি যোগে কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসলাম।

 

শুধু যে আশপাশের বাসিন্দাদের আগমনে মুখরিত থাকে এই কাশবাগান তা কিন্তু নয়। এটি দেখতে এবং কাশফুলের সাথে কাটানো সুন্দর মুহুর্ত ফ্রেমবন্দী করে রাখতে জেলার রামগঞ্জ, সদরের হামছাদি, মির্জাপুর,পাশের জেলা চাঁদপুরের গৃদকালিন্দিয়া ও বর্ডার বাজার থেকে আসেন পর্যটকরা। বন্ধুদের সাথে ঘুরতে আসা গৃদকালিন্দিয়া কলেজের শিক্ষার্থী- নাহিয়ান জয় বলেন, সত্যি অনেক ভালো লাগছে। আমরা ছয়জন এখানে এসছি শুধুমাত্র কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ এবং কয়েকটি ছবি তোলার জন্য। আমাদের খুব কাছে কাশফুলের এত সুন্দর বাগান রয়েছে সেটি আগে জানতাম না। আজ সকালে জানতে পেরে ছুটে আসি।

 

এদিন সবার মতো কাশফুল দেখতে আসেন নববিবাহিত সবুজ-রুমী দম্পতি। দুজনের সুন্দর ছবি হয় ফ্রেমবন্দী। দেখে মনে হয় যেন কাশফুলের সাথে ফুটেছে নবযৌবনা দুটি গোলাপ।প্রায় দশ শতাংশ জায়গায় প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া এই কাশফুলের বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমান অর্ধশত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পিপাসু। ছবি তোলা, হৈ-হুল্লোড়, দলবেঁধে গান, আর হাসিঠাট্টায় মেতে উঠে এই কাশবনের আশপাশ।

 

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, অনেকেই ঘুরতে এসে ছেঁড়েন কাশফুল।আবার দলাই-মলাই হয়ে শুয়ে ড্রোন বিউ’র মতো ছবি তুলতে গিয়ে করেন কাশফুলের গোষ্ঠী উদ্ধার। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কান্ড করা অধিকাংশই কিশোর-তরুন।

 

জানা গেছে, কাশফুলের ইংরেজি নাম Kans Grass ও উদ্ভিদতাত্ত্বিক বৈজ্ঞানিক নাম- Saccharum Sportaneum। এটি ঘাসজাতীয় জলজ উদ্ভিদ। এর শেকড়ে গুচ্ছমূল রয়েছে। পাতাগুলো রুক্ষ ও সোজা। কবুতরের পালকের মতো নরম এটির সাদা সাদা ফুল। কাশফুল শুভ্রতার অর্থেও ভয় দূর করে বয়ে আনে শান্তির বার্তা। আর এ কারনেই শুভ কাজে ব্যবহার করা হয় কাশফুলের আবরন, পাতা ও ফুল।

 

মূলত কাশ বাংলাদেশের জনপ্রিয় ফুলগুলোর মধ্যে একটি। সৌন্দর্য দিয়ে একটি ঘাস জাতীয় ফুল জয় করে নিয়েছে মানব মন। শিখিয়েছে কোমলতা ও সরলতা। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের ফুলের এত কদর এবং মানুষের জয় করে নেওয়ার এই আবেদন আছে কিনা- সেটি জানা না থাকলেও বাংলা সাহিত্যে এ ফুলের উপস্থিতি রয়েছে ব্যাপক।

 

 

রায়পুর,লক্ষ্মীপুর।

 

 

দেশ জার্নাল বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়