বৃহস্পতিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

রায়পুরে গ্রামীন জীবনধারায় আমূল বিপ্লব ঘটিয়েছে ইন্টারনেট সেবা

 

নুরুল আমিন ভূঁইয়া দুলাল ,নিজস্ব প্রতিবেদক

 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ১০টি ইউনিয়নে সরকারি ইন্টারনেট ভিত্তিক ডিজিটাল সেন্টার সাধারন মানুষের বহুমুখী নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে। মানুষের জীবন যাপনে আমুল পরিবর্তন এনে দিয়েছে ইন্টারনেট। গ্রমে বসেই অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে শিক্ষার্থীরা। বিমান টিকেট ক্রয়-কনফার্ম, ব্যাকিং লেনদেন, টেন্ডার ড্রপিং,অনলাইনে পন্য বিক্রয়-বিক্রয়, প্রোডাক্ট ডেলিভারী, বিভিন্ন ঋণ আবেদন, সবধরনের ব্যাকিং সেবা, বিদেশ হতে প্রেরিত রেমিট্যান্স বিতরণ, ক্লিয়ারিং চেক গ্রহণ, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের আবেদন, অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন আবেদন , ইন্স্যুরেন্স, অনলাইনে টেন্ডার ড্রপিং ( ইজিপি), শিক্ষকদের পেনশন আবেদন ভিডিওকল, ফ্লাক্সি লোডসহ শতাধিক সেবা পাচ্ছন এলাকায় বসে। জানতে পারছেন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল। ফলে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের ঝামেলা ও শহরমুখীতা কমেছে বেড়েছে আয়।

 

রায়পুর উপজেলা আইসটি কর্মকর্তা শুভ্রজিৎ রায় জানান, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে অনলাইনে জন্ম-মৃত্যূর নিবন্ধন, বিদ্যুত বিল, জমির পর্চার আবেদন, জীবনবীমা, নাগরিক সনদ, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ডের তালিকা করতে পারছেন। এছাড়াও পাসপোর্টের আবেদন, হজ্ব যাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন ভিসা আবেদন, ই-মেইল, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সরকারি-বেসরকারি ডাটা এন্ট্রি, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ভাড়া, চাকুরীর আবেদন, মোবাইল সার্ভিসিং সেবা অনলাইনে পন্য বিক্রয়-বিক্রয়, অনলাইন এড ম্যানেজমেন্ট সেবা, ই-টিকেটিং সার্ভিস, প্রোডাক্ট ডেলিভারী, বিভিন্ন ঋণ, সবধরনের ব্যাকিং সেবা, বিদেশ হতে প্রেরিত রেমিট্যান্স বিতরণ, ক্লিয়ারিং চেক গ্রহণ, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের আবেদন, অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন আবেদন , ইন্স্যুরেন্স, অনলাইনে টেন্ডার ড্রপিং ( ইজিপি), শিক্ষকদের পেনশন আবেদন, অনলাইনে শিক্ষক সহায়তা ট্রাষ্ট তহবিলে আবেদন, বিভিন্ন আইনি সেবা, টলিমেডিসিন-স্কাইপ (ডিজিএইচএস), উপজেলা হেলথ কমপে¬ক্সের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান, ষ্ট্যাম্প বিক্রয় সেবা, সরকারী নোটিশ বিক্রয়, বিভিন্ন সংস্থার লজিষ্টিক সাপোর্ট, অনলাইনে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারের আবেদন, ষ্টুডেন্টদের ডাটাবেজ তৈরী, পরিচয়পত্র প্রদান, ফ্লেক্সিলোডসহ বিভিন্ন প্রকার বানিজ্যিক ইন্টারনেট সেবাও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে দেয়া হয়।

 

বৃহস্পতিবার সরজমিন ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রে গিয়ে কথা হয় চরবংশী গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল জলিলের সাথে। পানের রস গাল বেয়ে বেয়ে পড়ছিল নীচে। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। দুহাত দিয়ে ছেলের গা মুছে দিচ্ছিলেন। তাঁর কস্ট চোখে মুখে খুশির ঝিলিক। ছেলের সৌদি যাওয়ার ভিসা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে চেক করে নিশ্চিত হয়েছেন তিনি। তাই তাঁর এত উচ্ছাস। সেবাগ্রহিতা চরবংশী গ্রামের মো: ফিরোজ বলেন, আমি ওমান প্রবাসী কুয়েত এয়ার ওয়েজের টিকেট ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে রিকনর্ফাম করেছি। আগে ঢাকায় ছাড়া একাজ কোন ভাবেই সম্পন্ন করা সম্ভভ ছিল না। পল্লী বিদ্যুতের মিটারের জন্য আবেদনকারী রুহুল আমিনের পুত্র রাশেদ খলিফা বলেন আমরা হয়রানী ঘুষ দুটো থেকেই বেচে গেছি। উপজেলা সদরে আবেদনে আগে দালাল ধরতে হতো। আমরা খুশি।

 

১নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির মিন্টু জানান রায়পুর উপজেলার মেঘনাতীরবর্তী চরাঞ্চলের এই ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে ১শ ৬ ধরনের সেবা পাচ্ছে গ্রামের সাধারণ মানুষ। কাজের পুরস্কার হিবেসে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত হয়েছি। আয়ও করছি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

 

ইউপি চেয়ারম্যান মো: আবুল হোসেন বলেন, ‘জনগণের দোড়গোড়ায় সেবা’ শ্লোাগানকে সামনে রেখে ইউডিসির যাত্রা ইউডিসি প্রতিষ্ঠার ফলে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি অবাধ তথ্য প্রবাহ সৃষ্টি করা সম্ভবপর হয়েছে, যেখানে মানুষকে আর সেবার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে না, বরং সেবাই পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের দোরগোড়ায়। সেবা প্রদানের জন্য আমার ইউনিয়ন জেলায় শ্রেষ্ঠ হওয়ার গৌবর অর্জন করেছে। এছাড়াও কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন ও মানবাধিকার, পর্যটন, অকৃষি উদ্যোগ, জীবন জীবিকা ভিত্তিক তথ্যভান্ডার, জাতীয় ই-তথ্যকোষ প্রদান করা হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টার থেকে। অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইন ই-তথ্যকোষের ভার্সনে নানা রকম সেবাও প্রদান করে থাকে ডিজিটাল সেন্টার থেকে। প্রতিদিন এসব সেন্টারের কার্যক্রম তদারকি করে অনলাইনে আপডেট করা হয়। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষন দেয়া হয়। আমরা উদ্যোক্তাসহ সেবা গ্রহীতাদের সমস্যা সাথে সাথে সমাধানের চেস্টা করে থাকি।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অন্জন দাশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়পযোগী এ পদক্ষেপের জন্য সারাদেশের মানুষ আজ তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আগে যেখানে দেশের মানুষের জন্ম এবং মৃত্যুর হিসেব রাখা সম্ভব ছিলনা, ইউডিসির কারণে এখন তা সম্ভব হয়েছে। ইউডিসি কেন্দ্রের দায়িত্বরত উদ্যোক্তাদের আন্তরিকতার কারণে পরিষদের প্রতি সাধারণ মানুুষের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রায়পুরের প্রতিটি ইউডিসি কেন্দ্র দিনের বেশির ভাগ সময় খোলা থাকে। যার কারণে সাধারণ মানুষ যেকোনো সময় তাদের কাজ করে নিয়ে যেতে পারছেন। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়েছে তেমনি দেশের অসংখ্য শিক্ষিত বেকার ছেলে-মেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য যা একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে।

দেশ জার্নাল বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----