সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ভিজিএফের ১৮ মে.টন চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ

 

নুরুল আমিন ভূইয়া দুলাল, নিজস্ব প্রতিবেদক

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ভিজিএফের চাল বিতরণে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে। এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন তুলেন ভুক্তভোগী মানুষ।
জানা গেছে, উপজেলার চরপোড়াগাছা ইউনিয়নে সাগরে মাছ ধরা জেলেদের সংখ্যা ২২৫০ জন। ওই ইউনিয়নে জেলেদের দ্বিতীয় পর্যায়ের চাল বরাদ্ধ হলো ৬৭.৫০০ মে.টন। এতে প্রতিনামে ৮ থেকে ১০ কেজি করে কম দেওয়া হলে প্রায় ১৮ থেকে ২২ মে.টন চাল কম হয়। গত বৃহস্পতিবার প্রকৃত জেলেদের মাঝে ৩০ কেজি হারে চাল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা জেলেরা তাদের সরকারী নির্ধরিত বরাদ্ধের ৩০ কেজি চাল নিতে আসেন। এসময় ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে জেলেপ্রতি চাল দেয়া হয় ২০ থেক ২২ কেজি করে। ভুক্তভোগী মনির, জাহাঙ্গীর, রিয়াজ, মো. আব্বাস, মো. দিদার হোসেন, আয়ুব মাঝি, ইউনুছ মাঝি ও কবির হোসেন এমন অভিযোগ করেন। এতে প্রায় ১৮ থেকে ২২ মে.টন চাল জেলেদের কম দেয়া হয়েছে তারা জানান। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৮/১০ লক্ষ টাকা।
নামপ্রকাশ না করারশর্তে ইউনিয়ন পরিষদের একটি সূত্র জানায়, ভিজিএফ চাল উত্তোলনে চেয়ারম্যান কারও সাথে কোন যোগযোগ করেন না। হঠাৎ আমাদেরকে ফোন করে চাল বিতরণ আছে বলে জানান, এর আগেও চাল বিতরণে বড় অনিয়ম ধরা পড়ে চেয়ারম্যানের। পরবর্তীতে সকল মেম্বারদেরকে একটি সুবিধা দিয়ে মীমাংশা করেন তিনি। গোপন সূত্রটি আরও জানান, চেয়ারম্যান রাতে সিএনজি যোগে ভিজিএফের চাল বিভিন্ন জায়গায় পাচার করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মনোনীত ইউনিয়ন ট্যাগ অফিসার উপস্থিত না থাকায় এমন কাÐ ঘটেছে।
উপজেলা মৎস্য অফিসসূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় নিবন্ধিত মোট জেলের সংখ্যা ২৪ হাজার ৫৭০জন। গভীর সাগরে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৭ হাজারের বেশি। ওই ইউনিয়নে সাগরে জেলেদের দ্বিতীয় পর্যায়ের চাল বরাদ্ধ হলো ৬৭.৫০০ মে.টন।
মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় প্রথম পর্যায়ের চাল ৫৬ কেজি করে ইতিপূর্বে বিতরণ করা হয়েছে। বাকী বরাদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়ের ৩০ কেজি চাল বিতরণ শেষ পর্যায়ে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদ ট্যাগ অর্ফিসার মো.দিদার হোসেন বলেন, ওই চাল বিতরণের সময় দুই দিন আমি অনুপস্থিত ছিলাম। মৎস্য অফিস বিষয়টা ভালো জানেন।
উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. জসিম উদ্দিন জানান, ওই ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণ হয়েছে। এখনও কিছু চাল রয়েছে যা বিতরণ হবে। তবে চাল ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে কোন অভিযোগ পাননি তিনি। এবিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখা হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন হাওলাদার জানান, জেলেদের চাল আমি ত্রিশ কেজি করে দেই নাই। প্রতিবস্থায় ২/১ কেজি করে কম হতে পারে বলে জানান তিনি।

দেশ জার্নাল বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়