মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

শুক্রবার মানে সপ্তাহের শেষ্ঠ দিন

মুসলিম দের জন্য শুক্রবার হচ্ছে সপ্তাহের শেষ্ঠ দিন। প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমার দিন সেরা দিন ও আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন।

আল্লাহর কাছে তা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের চেয়েও উত্তম।’

আমলের দিক থেকে মহান আল্লাহ তায়ালা যেসব দিনকে ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করেছেন এর অন্যতম হলো জুমার দিন। এ দিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক আহকাম ও ঐতিহাসিক নানা ঘটনা। সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ।

হাদীসে আছে জুমার দিন যে ব্যক্তি মসজিদের উদ্দেশ্য যত আগে রওনা দিবে তার আমল তত বেশি হবে।
বাড়ি থেকে যদি মসজিদ দুরে হয় তাহলে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার ফজিলত অনেক।

আল্লাহ সূরা আলে ইমরান এর ১০২ নাম্বার আয়াতে বলেন

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ حَقَّ تُقٰتِہٖ وَ لَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ ﴿۱۰۲﴾
ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুত্তাকুল্লা-হা হাক্কাতুকা-তিহী ওয়ালা-তামূতুন্না ইল্লা-ওয়া আনতুম মুছলিমূন।

হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যেমনভাবে করা উচিৎ এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যু বরণ করনা।

সুতরাং আল্লাহ কে আমাদের ভয় করা উচিত যে ভাবে ভয় করা দরকার। শুক্রবার সপ্তাহের সেষ্ঠ দিন গুনা মাপের দিন তাই মুসলিম রা যে যত আগে পারে তারা গোসল করে বাড়িতেই ওজু করে পাঞ্জাবি পড়ে সুন্দর করে সেজে মসজিদের দিকে রওনা হয়।

জুমা দিবসে করণীয়: সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে জামাতের সহিত ফজরের নামাজ আদায় করে জুমার আগে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। দয়াল নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে মহান আল্লাহ পাক তার জন্য জুমার মাঝের সময়টা নূর দ্বারা ভরিয়ে দেয়।’ (বায়হাকী শরীফ)

মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিনে যখন (জুমার) নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা অনুধাবন করো।’ (সুরা জুমা, আয়াত : ৯)

জুমার দিনে দোয়া কবুল হওয়ার সময়ের ব্যাপারে ৪৫টি মতামত পাওয়া যায়। তবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মত হলো, আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত দোয়া কবুলের সময়। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিনের কাঙ্ক্ষিত সময় হলো আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত।’ (মুসনাদে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ৫৪৬০; তিরমিজি, হাদিস : ৪৮৯)

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত নবী ﷺ বলেন,
“তোমরা জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ জিবরাইল আলাইহিস সালাম এইমাত্র আল্লাহ তায়ালার বাণী নিয়ে হাজির হলেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘পৃথিবীতে যখন কোনো মুসলমান আপনার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে আমি তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করি এবং আমার সব ফেরেশতা তার জন্য দশবার ইস্তেগফার করে।”

[তারগিব : ৩/২৯৯]

নবীজি ﷺ বলেছেন, “যে কেউ শুক্রবারে সূরা আল-কাহাফ পড়বে পরবর্তী জুম’আ পর্যন্ত সে নূর দ্বারা আলোকিত থাকবে।” [

মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৩৬৮, সুনান দারমী ২/৪৫৪]

দেশ জার্নাল /এস.এম

দেশ জার্নাল বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়