বৃহস্পতিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

হত্যা মামলার আসামী জামিনে এসে পুনরায় সেনাপরিবারকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ২নং উত্তর চরবংশি ইউনিয়ন এর ৪নং ওয়ার্ডের মাতবর বাড়ির মৃত কেরামত আলী মাতবর এর ছেলে আব্দুল গফুর মাতবর(৬০) কে জমিসংক্রান্ত জেরে হত্যার পর সেই হত্যা মামলায় তিনমাস জেল খেটে জামিনে বেড়িয়ে এসে সেনাপরিবারকে পুনরায় হত্যা চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের বাসিন্দা অবসর প্রাপ্ত আসামী সুবেদার ওসমান গনী খোকা(৫৫), পিতা- মৃত আলী মিয়া, হাসান মাসুদ (৩৮), পিতা-ওসমান গনি খোকা, শহীদুল ইসলাম (৪২) পিতা- সিরাজ চৌকিদার, সৈয়দ আহমদ (৬০) পিতা- কেরামত আলী মাতবর সহ আরও অচেনা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে।

২৪ ফেব্রুয়ারী ( শনিবার) সকাল ৮ টার সময় লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার চরবংশি ইউনিয়নের বর্তমান জরিপী ৫৭৭ নং খতিয়ানের ১০৪৭৪ দাগের অভিযোগকারীনির স্বামীর মালিকীয় সম্পত্তির মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

এবিষয়ে রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে কোর্টে মামলা দায়ের করেন যার ধারা নং- ১৪৭/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৫৪/৩৭৯/৫০৬(২)/১০৯ দঃ বিঃ।

এবিষয়ে অভিযোগকারীনি রোকেয়া বেগম (৫২) কেঁদে কেঁদে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে বলেন, ” আমার ছেলেরা সেনাবাহিনীতে চাকুরী করে তারা কেউ বাড়িতে থাকেনা। আমার স্বামী একজন সহজ সরল লোক ছিলেন, গত ২ নভেম্বর ২০২১ (মঙ্গলবার) অনুমান বিকাল ৩ টা ৪৫ মিনিটের সময় আমার স্বামী বাড়ি থেকে খাসের হাট বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে খোরশেদ আলম এর চা দোকানের সামনে রাস্তার উপর পৌঁছলে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সোহেল বেপারী (৩৫) পিতা – মৃত খালেক বেপারী, রাসেল বেপারী (৪০) পিতা – মৃত খালেক বেপারী, মোঃ খোরশেদ আলম মাতবর (৪৫) পিতা – মৃত মুনসুর আহমদ, ওসমান গনী খোকন মাতবর (৫৫) পিতা – মৃত আবদুল আলী মাতবর, মোঃ হাসান মাসুদ মাতবর (৩৫) পিতা -ওসমান গনি খোকন মাতবর মিলে আমার স্বামীকে হত্যা করে যার মামলা নং জি, আর ২৫৮/২১, ধারা -৩০২/৩৪ দঃ বিঃ মোকদ্দমা দায়ের করা হয় । উক্ত মোকদ্দমা বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। সেই মামলায় আসামীগণ কীভাবে তিন মাস জেল খেটে জামিনে বেড়িয়ে আসে জানিনা। তারা জামিনে এসে এখন আমাকে সহ আমার পরিবারের সবাইকে আমার স্বামীকে যেভাবে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে সেভাবে আমাদেরকেও হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে।

গত শনিবার আমাদের সম্পত্তি দখল করার জন্য ওসমান গনী খোকা সহ কয়েকজন মিলে মাটি ভরাট এর চেষ্টা করলে আমরা তাদেরকে বাঁধা দেওয়ায় ওসমান গনী খোকা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে আমার ব্লাউজ চিড়ে শ্লীলতাহানি করে এবং মাটিতে শোয়াইয়া বেদম মারপিট করে ও আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পা দিয়া গলা চাপ দিয়া ধরিয়া হত্যা চেষ্টা করে তখন আমার মেয়ে ফারজানা সেই ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং আমার গলা থেকে এক ভরি ওজনের একটি স্বর্নের চেইন যার বর্তমান মূল্য ১ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। তার ছেলে হাসান মাসুদ আমার তলপেটে উপর্যুপরি লাথি মারিয়া গুরুতর জখম করে। আমার অবস্থা খারাপ দেখিয়া আমার পুত্র বধূ এসে আমাকে ও মেয়ে ফারজানাকে রায়পুর হাসপাতালে ভর্তি করে যার ভর্তি রেজিঃ নং -৩৬৩/১৪৪, আমি ও আমার পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি যেকোনো সময় তারা আমাকে ও পরিবারের সবাইকে হত্যা করে ফেলতে পারে। আমি তাদের উপযুক্ত বিচার দাবী করছি। “

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওসমান গনী খোকা বলেন, “আমি আমার জমিতে লোকজন নিয়ে মাটি ভরাট করতে গেলে রোকেয়া বেগম ও তার মেয়ে ফারজানা আমাদেরকে বাঁধা প্রদান করে এই নিয়ে রোকেয়ার সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। ফারজানা ভিডিও ধারন করলে আমি তার হাত থেকে থাবা দিয়ে মোবাইল টা নিয়েছি তখন একটু হাতাহাতি হয় পরে আবার মোবাইল ফেরত দিয়েছি। আমরা তাকে কোন মারধর করিনি । আর রোকেয়ার স্বামী হ্যার্ট এ্যাটাকে মারা গেছে। সেই মৃত্যুর সঙ্গে আমি কোনভাবে জড়িত নই। তার স্বামী গফুর যখন মারা যায় তখন আমি সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। সোহেল গফুরকে একা রাস্তায় দেখতে পেয়ে জমাজমি সঠিকভাবে বুঝিয়ে দিতে জোরাজোরি করে। তখন হঠাৎই গফুর সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়ে। লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে শুনি সে মারা গেছে। এর বেশি কিছু আমি জানিনা। সোহেলসহ যারা ঘটনা দেখছে তারা বলতে পারবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষ দর্শী বলেন, ” রোকেয়া ও ওসমান গনীর মধ্যে হাতাহাতি হতে দেখেছি, ফারজানা ভিডিও ধারন করলে ওসমান গনী মোবাইল টা জোর করে ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু আমি ওসমান গনীকে মোবাইলটা ফেরত দিতে বলছি, ফেরত দিয়েছে কিনা দেখিনি। “

এবিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলে ব্যক্তিগতকাজে ঢাকা থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দেশ জার্নাল /এস.এম

দেশ জার্নাল বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----