বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কমলনগরে গৃহবধূ কে শ্লীলতাহানি দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও খলিল ডাকাত গ্রেফতার না হওয়ায় চরম আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার

নিজাম চৌধুরী কমলনগর(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় গভীর রাতে গৃহবধুর ঘরে ঢুকে স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও দুই শিশুকে ছুরি ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও মূল আসামি ডাকাত খলিল কে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অপরাধীরা কেউই গ্রেফতার হয় নি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। প্রশাসনের এই ধীরগতিতে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা খলিল ডাকাত ওরপে খল্লা ডাকাত (৪০) ও মোঃ রাজু ডাকাত(২৮)-কে আসামি করে গত ১০ মে কমলনগর থানায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-০৮) দায়ের করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো আসামি আইনের আওতায় আসেনি।

স্থানীয় একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আসামিরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এবং তার ছোট ভাই মুন্সী দিদার পর্দার আড়ালে নিয়ন্ত্রণ করতেছে পরোক্ষ ছত্রছায়া থাকায় পুলিশ তাদের গ্রেফতারে রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মামলা করার আজ এক মাসের বেশি হয়ে গেল। স্বামী বাড়িতে থাকেন না, ছোট ছোট দুইটা সন্তান নিয়ে আমি এখন দিন-রাত চরম আতঙ্কে কাটাচ্ছি। আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় তাদের স্বজনরা উল্টো আমাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার ও আমার সন্তানদের নিরাপত্তা এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল রাতে উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নে প্রবাসীর ঘরে ঢুকে তাঁর ১০ বছরের কন্যা ও ৫ বছরের শিশু পুত্রের গলায় ধারালো ছুরি ধরে জিম্মি করে বখাটেরা। সন্তানদের হত্যার ভয় দেখিয়ে প্রধান আসামি খলিল ডাকাত ওরপে খল্লা ডাকাত ওই গৃহবধূর ওপর চড়াও হয় এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে খলিল ডাকাত ওরপে খল্লা ডাকাত ও রাজু ডাকাত কে হাতেনাতে আটক করে। তবে পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিচারের আশ্বাস দিয়ে মুন্সি দিদারের সহায়তা আসামিদের স্বজনরা তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। পরে কোনো সুষ্ঠু সমাধান না পেয়ে ভুক্তভোগী নারী আইনি ব্যবস্থা নেন।

এ বিষয়ে কমলনগর থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের কোনো অবহেলা নেই। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে এবং ঘন ঘন তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে। আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করতে জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

দেশ জার্নাল বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

[TheChamp-FB-Comments]

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----