শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

রায়পুরে ওয়ারিশি জমি নিয়ে বিরোধ, ‎ঘর নির্মাণ ও বেড়া ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ‎

‎রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ


‎লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া এবং খরিদা জমির মালিকানা দাবি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও সমাধান হয়নি। সর্বশেষ জমিতে ঘর নির্মাণ ও সীমানা বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তাজুল ইসলাম গংয়ের বিরুদ্ধে।

‎ভুক্তভোগী নুরজাহানের অভিযোগ, তারা তাদের দাদার ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির অংশ দীর্ঘদিন ধরে তাজুল ইসলাম গংয়ের কাছে দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বৈঠক ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিপক্ষ বারবার সমাধান থেকে সরে যায়।

‎অভিযোগকারী পক্ষে জহির হোসেন বলেন কয়েক মাস আগে হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে বসেও বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে সমাধানের কাছাকাছি গেলেও তাজুল ইসলাম গং ওই সালিশি সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। পরে লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলা করা হয় বলে অভিযোগ তাদের।

‎এরপর অভিযোগকারী পক্ষের ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া এবং আক্তার ও ইসমাইলের খরিদা সূত্রে রেকর্ডভুক্ত জমিতে কাজ করতে গেলে প্রতিপক্ষ ১৪৪ ধারায় মামলা করে বলে দাবি করা হয়েছে। আদালত/প্রশাসনের আদেশের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ওই সময় তারা জমিতে কোনো কাজ করেননি।

‎অভিযোগকারী পক্ষ জানায়, ১৪৪ ধারার আদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা নিজেদের দাবি করা জমিতে ঘর নির্মাণ ও সীমানা বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করেন। এ সময় তাজুল ইসলাম গং থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু পুলিশের দুই উপপরিদর্শকের (এসআই) উপস্থিতিতেই প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের নির্মিত ঘর ও সীমানা বেড়া ভাঙচুরের চেষ্টা করে এবং তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

‎এ ঘটনায় আব্দুর রহিম, দেলোয়ারা, নুরজাহান, জুটন, জহির ও আক্তারসহ কয়েকজন হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। তাদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

‎ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, জমির মালিকানা ও দখলের বিষয়ে তাদের কাছে রেকর্ডপত্র, ওয়ারিশান সনদ, খরিদা দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও বারবার মামলা ও পুলিশের অভিযোগের মাধ্যমে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।



‎এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিরোধের আইনগত নিষ্পত্তি না হলে যেকোনো সময় নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

‎ভুক্তভোগীরা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে হামলা, ভাঙচুর ও হয়রানির অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিরোধ আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।

‎তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত তাজুল ইসলাম গংয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।


‎হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বেলায়েত হোসেন বলেন, “এক মাস আগে ফাঁড়িতে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়েছিল। সমাধানের আগেই এক পক্ষ আদালতে মামলা করে। যেহেতু বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন, তাই এটি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। আমাদের আর কিছু করার নেই।


‎তিনি আরও জানান, “ঘটনার সময় ৯৯৯-এ কল আসে এবং ফাঁড়িতেও জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার এবং থানায় আসার জন্য বলে। এ সময় তাজুল ইসলাম গং বেড়া ভেঙে দেয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে দুই পক্ষের দুইজনকে থানায় আনা হয়।

দেশ জার্নাল বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

[TheChamp-FB-Comments]

----- সংশ্লিষ্ট সংবাদ -----